ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলি

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলি

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা,

১। বাড়িতেই হোক বা ভ্রমনের ক্ষেত্রেই হোক, নগদ টাকা চুরি ডাকাতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না।

২। ক্রেডিট কার্ডের সাহায্যে, যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে কেনাকাটা করা যায়, দোকানে যাওয়ার প্রযোজন হয় না। বিভিন্ন রকম বিল, ফিস পেমেণ্ট করার জন্য, নগদ টাকা নিয়ে বেরোনোর দরকারই নেই, ঘরে বসেই এসব করা যায়।

৩। জরুরী প্রয়োজনে, নিজের হাতে টাকা না থাকলেও, তাত্ক্ষনিকভাবে, ক্রেডিট কার্ডের লিমিটকে কাজে লাগিয়ে, সে প্রয়োজন মেটানোর সুবিধা পাওয়া যায়।

৪। নগদ টাকা হারিয়ে গেলে, ফেরত্‍ পাওয়ার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ, ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে, সাথে সাথে কার্ডকে ব্লক করে দেয়া যায়। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।

৫। ক্রেডিট কার্ড দ্বারা লেনদেনের ক্ষেত্রে, নিজের আসাবধানতা ব্যতীত, অন্য কোনো কারণে জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটলে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায়, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানী সে জালিয়াতির দায় বহন করে, গ্রাহককে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না।

৬। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (billing period) ক্রেডিট কার্ডের লিমিটকে একেবারেই বিনাসুদে ব্যবহার করা যায়।

ধরা যাক, কারো ক্রেডিট কার্ডের লিমিট দশ লাখ টাকা এবং বিলিং পিরিয়ড চল্লিশ দিন (সাধারণত: চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দিন থাকে)।

তিনি ক্রেডিট কার্ডটি দিয়ে দশ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনলেন,

গাড়ি কেনার তারিখ, ০১-০১-২০২০।

ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেণ্টের তারিখ, ০৯-০২-২০২০।

এক্ষেত্রে, কার্ড হোল্ডারকে, ০১-০১-২০২০ থেকে ০৮-০২-২০২০ অর্থাত্‍ এই ৩৯ দিন দশ লাখ টাকার ফান্ড ব্যবহার করার জন্য, ক্রেডিট কার্ডের কোম্পানীকে কোনো আলাদা টাকা দিতে হবে না।

একেবারেই নি:শুল্কভাবে, ৩৯ দিনের জন্য, দশ লাখ টাকা ব্যবহারের সুযোগ।

৭। নগদ টাকা হারিয়ে গেলে, কে পেয়েছে বের করা কঠিন। ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে , খোঁজার প্রয়োজন হয় না কে পেয়েছেন বা কোথায় হারিয়েছে। মুহুর্তেই, কার্ডটিকে ব্লক করে দেয়া যায়।

৮। ক্রেডিট কার্ডে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে, সিষ্টেম এর রেকর্ড থেকে বের করা যায়, কিভাবে, কোথায়, কেমন করে জালিয়াতি হয়েছে। আই পি ট্র্যাক করে, জালিয়াতকেও চিহ্নিত করা যায়।

৯। ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা এবং সময়মতো বিল পেমেণ্ট করার ফলে, একজন ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারের CIBIL রেকর্ড (ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতার সূচক সংখ্যা) তৈরীর ক্ষেত্রে, ইতিবাচক ভাবে সাহায্য করে।

১০। ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার ফলে, কেনাকাটার মোট টাকার উপর নির্ভর করে, Reward point জমা হয় বা ক্যাশ-ব্যাক হয়।

Reward point এর সুবিধে হচ্ছে, এর দ্বারা গিফ্ট আইটেম আনানো যায় বা গিফ্ট না চাইলে, reward point কে টাকায় পরিণত করে (encash), বিল থেকে সেই টাকা কমিয়ে ফেলার সুবিধে থাকে। প্রতিমাসের কার্ড স্টেটমেণ্টে, কত reward point জমেছে, সেটা উল্লেখ থাকে।

How do you become a successful freelancer_

অসুবিধা,

১। কেনাকাটার সুবিধার কারণে, অপ্রয়োজনীয় খরচের দিকে ঝোঁক বাড়তে পারে এবং অহেতুক নিজের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

২। ক্রেডিট কার্ডের বিল দেরীতে পেমেণ্ট করার ক্ষেত্রে, চড়া সুদ গুনতে হবে।

৩। ক্রেডিট কার্ডের জন্য, বার্ষিক ফি দিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *